ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (১১ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং ইরানি জনগণের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টকারী হিসেবে গণ্য করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গত রোববার (৮ মার্চ) মোজতবা খামেনিকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএকে বলেন, আমরা ইরানি জনগণের তাদের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকার ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।
ওই মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে বলেন, তারা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তি ধ্বংস করছে এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।
তিনি ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের এই ধরনের আগ্রাসন কখনোই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চাপে থাকলেও উত্তর কোরিয়া তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পুনরায় উচ্চপর্যায়ের আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর কিম জং উনের সঙ্গে একটি শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের নৌবাহিনী শেষ, সবই সমুদ্রের তলায় পড়ে আছে: ট্রাম্পইরানের নৌবাহিনী শেষ, সবই সমুদ্রের তলায় পড়ে আছে: ট্রাম্প
এর আগে কিম জং উন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যদি ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে মেনে নিয়ে আলোচনা করে, তবে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। তবে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার এই কড়া অবস্থান নতুন করে কূটনৈতিক মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি