আজকের দিনে যেই বাচ্চা প্রিম্যাচিউর বা সময়ের আগে জন্মায়, তাকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়। কিন্তু ৫০০ বছর আগে যখন বিদ্যুৎ বা আধুনিক প্রযুক্তি কিছুই ছিল না, তখন ডাক্তাররা কী করতেন?
১৫০৬ সাল। হাঙ্গেরির রাজপরিবারে জন্ম নিলেন লুই দ্বিতীয় (Louis II)। কিন্তু সমস্যা হলো, তিনি জন্মেছিলেন সময়ের অনেক আগেই। শরীর এতটাই দুর্বল আর অপরিণত ছিল যে, ডাক্তাররা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। আগুনের তাপে সেঁক দিলে বাচ্চার ত্বক পুড়ে যাবে, আবার তাপ না দিলে হাইপোথার্মিয়ায়
মা/রা যাবে—ভয়ংকর সংকট!
তখন রাজবৈদ্যরা নিলেন এক বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত। সেই যুগের চিকিৎসাবিজ্ঞান বা ‘হিউমোরাল থিওরি’ অনুযায়ী বিশ্বাস করা হতো, আগুনের ‘শুষ্ক তাপ’ নয়, বরং প্রাণীর শরীরের ‘আর্দ্র ও জীবন্ত উষ্ণতাই’ কেবল আরেকটি প্রাণ বাঁচাতে পারে।
ডাক্তাররা সদ্য জ/বা/ই করা শূক/র বা এই জাতীয় পশুর পে/ট চি/রে, সেই গরম দেহের ভেতর মুড়িয়ে রাখতেন ছোট্ট রাজপুত্রকে! পশুর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলেই আবার নতুন পশু আনা হতো। শুনতে যদিও এটি গা শিউরে উঠার মত, তারপরেও এটিই ছিল তখনকার দিনের ‘প্রাকৃতিক ইনকিউবেটর’। পশুর শরীরের ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা হুবহু মায়ের গর্ভের পরিবেশ তৈরি করেছিল।
মিরাকলের মতো কাজ হলো এতে! রাজপুত্র লুই বেঁচে গেলেন। তবে শোনা যায়, এই ‘পশু-চিকিৎসার’ ফলে তার শরীরে নাকি অদ্ভুত কিছু পরিবর্তন এসেছিল। মাত্র ১০ বছর বয়সেই নাকি তার দাড়ি গজিয়ে গিয়েছিল এবং তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের মতো আচরণ করতেন! যদিও এটা লোককথা হতে পারে, তবে তিনি যে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন তা ধ্রুব সত্য।
কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!
যেই মানুষটি জন্মের সময় মৃ/ত্যু/র মুখ থেকে ফিরে এলেন, মাত্র ২০ বছর বয়সে মোহাক্সের যুদ্ধে পিছু হটার সময় সামান্য এক জলায় ঘোড়া থেকে পড়ে
ডু/বে মা/রা গেলেন। তার মৃ/ত্যু/র সাথেই পতন ঘটলো মধ্যযুগের হাঙ্গেরিয়ান রাজত্বকালের।