মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ ছাপিয়ে লাশের পাহাড় জমছে, তখন ওয়াশিংটনকে হাড়হিম করা এক হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। সোমবার রাতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান তার জবাব দেবে অত্যন্ত ‘বেপরোয়া’ এবং ‘নির্দয়ভাবে’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন, তাকে মার্কিন ‘সন্ত্রাসবাদী সরকারের’ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কালিবাফ। তিনি লিখেছেন, মানুষ হত্যা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিণাম হবে অনিয়ন্ত্রিত। আমরা এর জবাবে যে পদক্ষেপ নেব, তা হবে একেবারেই বেপরোয়া এবং দয়াহীন।
ইরানের স্পিকার সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে যদি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে তার সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে বিশ্ব তেলের বাজারে। মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল এবং নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে আগ্রাসী দেশগুলোর সাথে যুক্ত তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর পথ রোধ করেছে। যারা এই সতর্কতা উপেক্ষা করছে, তাদের ওপর সরাসরি হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী।
ইরান বর্তমানে শুধু আত্মরক্ষা নয়, বরং আক্রমণাত্মক কৌশলে এগোচ্ছে। পারস্য উপসাগরের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ট্যাঙ্কার চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে।
কালিবাফের এই তপ্ত বয়ান প্রমাণ করে, তেহরান এখন আর কেবল কূটনৈতিক আলোচনার অপেক্ষায় নেই। ট্রাম্পের ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’র জবাবে ইরান এখন ‘বেপরোয়া’ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইরনা ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি