মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ তুঙ্গে, তখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরের খবর চাউর হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার এই সংঘাতের ময়দানে রাশিয়ার ‘জড়িয়ে পড়া’ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ইস্যুতে ইস্যুতে রাশিয়ার নাক গলানো চলবে না
ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে হওয়া বহুল আলোচিত ফোনালাপকে ট্রাম্প ‘ইতিবাচক’ বললেও, হেগসেথের বয়ানে উঠে এসেছে এক ভিন্ন এবং কিছুটা একগুয়ে সুর। হেগসেথ জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সাথে যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখেন, তা আমেরিকার জন্য অনেক নতুন পথ খুলে দেয়। এই ফোনালাপটিও ছিল তেমনই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ঠিকই, তবে আসল বার্তা ছিল ইরানকে নিয়ে।
মঙ্গলবার পেন্টাগনের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে হেগসেথ স্পষ্ট করে বলেন, এই সংঘাতের (ইরান-ইসরাইল) বিষয়ে একটি সাধারণ স্বীকৃতি রয়েছে, তাদের (রাশিয়া) এখানে কোনোভাবেই জড়িত হওয়া উচিত নয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন পুতিনকে ‘সহায়ক’ হিসেবে দেখছেন, হেগসেথ তখন রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে এক ধরণের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা টেনে দিচ্ছেন। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি পুতিনকে দিয়ে ইরানকে শান্ত করতে চাইছেন, নাকি হেগসেথের এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাশিয়াকে কোনো ধরণের সামরিক সহযোগিতা থেকে দূরে থাকার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হলো?
হেগসেথের এই বক্তব্য প্রমাণ করে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন কোনো তৃতীয় শক্তির হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করতে রাজি নয়। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো শক্তি যদি তেহরানের পাশে দাঁড়ায়, তবে যুদ্ধের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে, আর সেটাই আটকাতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ