মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ছিল তাদের সবচেয়ে তীব্র ও ভয়াবহ আক্রমণ। এই হামলা টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইলের তেল আবিব ও হাইফা শহর। এছাড়া ‘পশ্চিম জেরুজালেম’ এলাকাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এএফপি’র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, জেরুজালেমে সাইরেন বাজার পাশাপাশি বিকট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এই দফায় ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক লক্ষ্যবস্তু এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পঞ্চম নৌবহরের’ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বুধবার দাবি করেছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর কাছে কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ যাওয়ার ‘সাহস’ দেখাচ্ছে না। এর আগে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপদে পার হতে সহায়তার দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা মুছে ফেলেন।
বুধবার ভোরে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও নতুন হামলার খবর জানিয়েছে। তবে দেশ দুটি দাবি করেছে যে, তারা তাদের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
বসতিতে হামলা হলে ইরানের জবাব হবে বেপরোয়া ও নির্দয়: কালিবাফবসতিতে হামলা হলে ইরানের জবাব হবে বেপরোয়া ও নির্দয়: কালিবাফ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চল এক বড় ধরনের যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: এএফপি