ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
বাংলাদেশ জার্নালের পঠাকদের জন্য সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে বিজয়ী যারা…………….
ঢাকার কোন আসনে কে কত ভোটে জিতলেন
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তার এই বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। সংসদীয় আসনের নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বগুড়ার সাতটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সব আসনের ফলাফলে পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করা হয়েছে।
বগুড়া-৬ (সদর)
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।
অন্যদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ ২ হাজার ৫০৮, বাসদের দিলরুবা নুরী মই প্রতীকে ২৭৬ এবং জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি তারা প্রতীকে ২৭৬ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা শতকরা ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা)
বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. শাহাবুদ্দিন পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯৩৩ ভোট।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ)
বিএনপির মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
জাতীয় নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট। আসনটিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২ জন ভোটার ভোট দেন, যা শতকরা ৭২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি)
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নূর মোহাম্মদ পান ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট।
১১৮টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭১৬ জন ভোট দেন, যা শতকরা ৭২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম)
বিএনপির মোশারফ হোসেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮ ভোট।
এ আসনে ১১৫টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৮ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা শতকরা ৭৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট)
বিএনপির জিএম সিরাজ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী দবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট।
এ আসনে ৪ লাখ ৬৪৪ জন ভোটার ভোট দেন, যা শতকরা ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর)
বিএনপির মোর্শেদ মিলটন ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট। ১৭৩টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৮০ হাজার ২৫০ জন ভোটার ভোট দেন, যা শতকরা ৭১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান জানান, ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সাতটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং সব ফলাফলে পোস্টাল ব্যালটের ভোট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট। ফলে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জামায়াতের এই প্রার্থী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও ১ (সদর) আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। ১৮৫টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী তিনি মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার পেয়েছেন এক লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৩৩টি ভোট। সেই হিসানে ৯৫ হাজার ৪৯১ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
বেসরকারি ফলাফলে হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বড় জয় পেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি এ তথ্য জানা গেছে।
উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সংসদীয় আসনের ১১৬ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে সব কেন্দ্রেই বেশি ভোট পেয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
শুরু থেকেই এই আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম এই সমন্বয়কের পক্ষে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে, বিএনপি সমর্থিত ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে হাসনাত আবদুল্লাহর দাপটের কাছে সুবিধা করতে পারেননি। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেবিদ্বারের রাস্তায় নেমে আসেন হাসনাত আবদুল্লাহর হাজার হাজার সমর্থক।
কিশোরগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপির ফজলুর রহমান জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ ৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বেসরকারি ফলাফলে জয়লাভ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ ৪ আসনে ১৫০ কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫৩ ভোট।
অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ৭৬ হাজার ৯০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ফজলুর রহমান।
ঢাকা-১৪ আসনে ব্যারিস্টার আরমানের বিজয়
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় মোট ১৭৩ কেন্দ্রের ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
এতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার আরমান ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট। ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর লক্ষাধিক ভোটে জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
মোট ১৪৯টি ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষে ধানের শীষ প্রতীকে লুৎফুজ্জামান বাবর পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ২২৪ ভোট। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৮ ভোট।
ঝিনাইদহ-১ আসনে বেসরকারি ফলে বিএনপির আসাদুজ্জামান বিজয়ী
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের বেসরকারি ফলে বিএনপির প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার কিছু আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন।
জামায়াতের ড. মিজানুর রহমান জয়ী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান জয়ী হয়েছেন। ১৮৪টি কেন্দ্রে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩২ ভোট।
দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৩ ভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোয়া ১০টায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী কয়ছর বিজয়ী
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা) আসনে বিএনপি প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৯৬,৬৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে তিনি ৫৪ হাজার ৭১৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন (তালা প্রতীকে) ৪১,৯৪৮ ভোট পেয়েছেন।
তবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সরকারিভাবে চূড়ান্ত কোনো ফল ঘোষণা করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনা ও মনিটরিং সেল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হেরে গেলেন জামায়াত সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার
খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার (লবি) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭০২ ভোট।
আসনটিতে মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮। ফুলতলা, ডুমুরিয়া উপজেলা এবং গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত খুলনা–৫ আসন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ফলাফল পাওয়া যায়।এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিপুল ভোটে বিজয়ী আন্দালিব রহমান পার্থ
ভোলা -১ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০০৮ সালে তিনি এ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সহকারী রিটানিং অফিসারের দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গরুরগাড়ি প্রতীকে আন্দালিভ রহমান পার্থ পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবায়দুর রহমান পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯১ ভোট। সহকারী রিটানিং অফিসারের দফতর ঘোষিত তথ্য থেকে এই ফলাফল পাওয়া যায়।
সাতক্ষীরা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ইজ্জত উল্যাহ বেসরকারিভাবে বিজয়ী
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ইজ্জত উল্যাহ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সংসদীয় আসন নম্বর ১০৫-এর ১৬৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ইজ্জত উল্যাহ পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৫৯৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৮ ভোট।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ বেসরকারিভাবে বিজয়ী
সাতক্ষীরা-২ (দেবহাটা-সাতক্ষীরা সদর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সংসদীয় আসন নম্বর ১০৬-এর ১৮০ কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ পেয়েছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ ভোট।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের রবিউল বাশার বেসরকারিভাবে বিজয়ী
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের রবিউল বাশার বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। মোট ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের রবিউল বাশার পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের ডা. শহিদুল আলম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৩৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের কাজী আলাউদ্দীন পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৭৩৪ ভোট।
বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। সংসদীয় আসন নম্বর ১০৮, সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে মোট ৯৬ কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৪ ভোট।
উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার বলেন, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা-১৪ আসনে ব্যারিস্টার আরমানের বিজয়
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় মোট ১৭৩ কেন্দ্রের ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
এতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার আরমান ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট। ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
হাঁস প্রতীকে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৯ জন প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৮ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই আসনে ভোট পড়েছে ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
উল্লেখ্য, এ আসনে মোট ভোটার ছিলো ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। এরমধ্যে, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৫ জন। আর নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ২০১ জন। আর হিজরা ভোটার ২ জন।
হবিগঞ্জের চারটি আসনেই বিএনপির জয়
হবিগঞ্জের চারটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) এই আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থীমাওলানা সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪৫ ভোট।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের আব্দুল বাছিত পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৩৮৮ ভোট।
হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আলহাজ জি কে গউছ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৫৮১ ভোট।
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী, আলোচিত ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৩০১ ভোট।
চট্টগ্রামের ১৪ আসন বিএনপির, দুটিতে জামায়াতের জয়
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে মোট ১০৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৮৩ ভোট।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে সরওয়ার আলমগীর পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ২১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোট ৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দিন পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৭২ ভোট।
চার আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১২৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিক পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তবে বিজয়ী আসলাম চৌধুরীর ফলাফল প্রকাশ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
ট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে মোট ১৪৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দিন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬২৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে মোট ৯৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৬ ভোট। আসনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩ ভোট।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোট ৯২ কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ৩ হাজার ৬৭, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিম ৩৮ হাজার ৬০৫ ভোট। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনে মোট ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে এরশাদ উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২৪১ ভোট এবং মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮৫৮ ভোট ও শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ১২১ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৩১ হাজার ৩৩০ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে মোট ১৩৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭১ হাজার ২৩ ভোট।
চট্টগ্রাম- ১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এগিয়ে আছেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এনামুল হক এনাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটির মোট ১১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট। আসনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪০ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সরোয়ার জামাল নিজাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটির মোট ৭৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৩৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৬১ ভোট। আসনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ২১ হাজার ৩৯১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়ার একাংশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত প্রার্থী কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭২ হাজার ২৭৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়ার একাংশ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট ১৫৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট ১১২টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। আসনটিতে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের জয়
ঢাকা-১১ আসনের প্রাথমিক ফলে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন।
ফলাফলে শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৩৭৫ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ ১ হাজার ৪৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার পেয়েছেন ৭৯৪ ভোট।
ঢাকা-১১ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার