নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। ঝালকাঠির রাজাপুরে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় দরজায় তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধায় বিএনপি নেতার বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ককটেল বিস্ফোরণ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে ভীতিকর পরিবেশের। নড়াইলে বিএনপি নেতার বাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা গেছে-

রাজাপুর (ঝালকাঠি): রাজাপুরে জামায়াতের প্রার্থীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় রাজাপুর প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী মো. আসাদুজ্জামান তালুকদার উপজেলার শুক্তগড় ইউনিয়নের কাঠিপাড়ার আব্দুল বারেক তালুকদারের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্তগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা বাদল ডাকুয়ার নির্দেশে তার ভাই মামুন, সরোয়ার, সাখাওয়াত ও তাদের সহযোগীরা শনিবার আসাদুজ্জামানের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা হাতুড়ি, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে তাকে ও তার ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধর করে। এতে তারা গুরুতর আহত হয়।

আরও পড়ুনঃ  খুলনার রেলিগেটে রাজা নামের এক যুবকে কু*পিয়ে জ*খম করেছে স*ন্ত্রাসীরা

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা তার ঘরের দরজা ভেঙে টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থানায় মামলা করলে অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

মো. মামুন ডাকুয়া তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। এর জেরে শনিবার আবার স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলা হয়।

হাতিয়া (নোয়াখালী): হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে গভীর রাতে ছাত্রদল নেতার ঘরের দরজার বাইরে তালা ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে ঘরটি আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামালসহ পুড়ে যায়। সোমবার রাত সাড়ে ৩টায় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-নাট্যবিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের গ্রামের বাড়িতে তার বাবা মো. বেলাল মিয়া বসবাস করতেন। তবে ঘটনার রাতে তিনি ঘরে উপস্থিত ছিলেন না।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ): গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের বাড়ির তালাবদ্ধ একটি ঘর আসবাবপত্রসহ আগুনে পুড়ে গেছে। সোমবার রাত ২টায় উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুরে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুনঃ  ওমর সানীর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ কাণ্ড, একজনকে কু*পিয়ে জ*খম

আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের এই বাড়িতে কেউ বসবাস না করায় ঘর তালাবদ্ধ থাকে।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ি ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে জেলা বিএনপি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ি ও গাইবান্ধা সদরসহ সাত উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুল, জেলা যুবদলের সভাপতি রাগীব হাসান চৌধুরী।

সাতক্ষীরা: শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর বাসস্ট্যান্ড সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকট শব্দে এলাকাবাসীর ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বংশীপুর বাসস্ট্যান্ডে নৈশপ্রহরী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ৫-৬ জন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে দেখা যায়, সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং পাশে কয়েকটি বাঁশের লাঠি ও একটা আওয়ামী লীগের ব্যানার পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুনঃ  কর্মচারীকে জি*ম্মি করে জামায়াত নেতার খামার থেকে ৪০টি ছাগল লুট

শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেলসহ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নড়াইল: নড়াইল-২ আসনের বিলডুমুরতলা এলাকায় হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন মোল্যার বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তখন ঘর থেকে বের হয়ে তারা দেখতে পান আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুনে ঘরে রাখা ধান, রবিশস্য ও বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করায় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরাই এ হামলা চালিয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম টিংকু বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আগুন দিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ

Share post:

সর্বশেষ খবর