সদ্য সমাপ্ত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে দলটি। তবে নতুন সরকার গঠনের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়েও চলছে নানা জল্পনা।বাংলাদেশ ভ্রমণ প্যাকেজ
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে জোরালোভাবে নাম আসছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান , অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ড. আব্দুল মঈন খান।
এদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পদত্যাগ করতে পারেন- এমন ইঙ্গিত তিনি গত ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও দায়িত্বে অব্যাহত থাকা নিয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে নির্বাচন পর্যন্ত আছেন জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। পরে দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং বর্তমানে দলীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য। দলীয় সূত্র মতে, তিনি তুলনামূলকভাবে নীরব ও কম বিতর্কিত প্রোফাইলের নেতা হিসেবে পরিচিত।
নজরুল ইসলাম খান দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দলের ভেতরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
অন্যদিকে আব্দুল মঈন খানও একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে আছেন।
তবে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন- সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।