যে কারণে জামায়াত প্রার্থীর কাছে হান্নান শাহর ছেলের পরাজয়

গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) নির্বাচনী আসনে ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইউবীর কাছে হেরে গেছেন; বাংলাদশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রয়াত আ স ম হান্নান শাহর ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান।

তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ৯০ হাজার ৩ শত ৯০ ভোট। তার চেয়ে ১১ হাজার ৩ শত ৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইউবী। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১ হাজার ৭ শত ৭৯টি।

নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর তিনি প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন। ওই আসনে বিজয়ী সালাহ উদ্দিন আইউবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমানে গাজীপুর মহানগর মেট্রো সদর থানা জামায়াতের আমির।

গাজীপুর-৪ আসনে বিগত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া সবগুলো নির্বাচনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এ বছরের হিসেব-নিকাশ ছিল কিছুটা ভিন্ন। নির্বাচনের ডামাঢোলের শুরুতে বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ দিকে প্রতিপক্ষ ১১ জলীয় জোট প্রার্থীর জনসম্পৃক্ততা বাড়ে।

আরও পড়ুনঃ  খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানালেন ডা. জাহিদ

মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। বাবা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। কাপাসিয়ার তৃণমূলের উন্নয়নে তার বাবার সময়কালকে সোনালী অধ্যায় ধরা হয়। বাবার রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততাও ছিল। সে হিসেবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও আছে তার। এর পরেও বিজয়ী হতে না পারার ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরিণ কোন্দলকে দায়ী করছেন।

অনেকে মনে করেন স্থানীয় বর্ষীয়ান বিএনপির অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাপাসিয়ার স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন,তার নেতাকর্মীরা ৫ আগষ্টের পর থেকে ওই আসনে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। জড়িয়েছেন নির্বাচনী সহিংসতায়ও। তার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজী, ভূমি অফিসে তদবিরবানিজ্যসহ পুরো উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভাগ বসানো সহ নানান কাজে জড়িয়ে পড়ে সমালোচিত হয়েছেন। এ বিষয়গুলো তার পরাজয়ে প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া শাহ রিয়াজুল হান্নানের সঙ্গে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত ভোট দেয়নি। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। এছাড়া তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলা চালানোর মতো ঘটনা ঘটান। সে সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হন। এছাড়া কয়েকদফা বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের মোবাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুনঃ  আলোচনায় জামায়াতের যেসব নারী প্রার্থী

বক্তব্য জানতে তরগাও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিনকে ফোন করলে তিনি জানান ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না, সমস্যা আছে। আমি কিছু বলতে চাই না।’

তবে এসব বিষয় পুরোপুরি মানতে নারাজ কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।

তিনি বলেন, অনেক অচেনা ভোটার কাপাসিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভোট দিয়েছেন। তাদের অন্য এলাকা থেকে এনে কাপাসিয়ায় ভোটার করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের অনেক আগে থেকেই ভোটার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার।

বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন,পরাজয়ের কারণগুলো এখনো এনালাইসিস করা হয়নি। এছাড়া হঠাৎ বিপুল সংখ্যক নতুন অচেনা ভোটারের বিষয়ে তারা খোঁজ নিবেন।

আরও পড়ুনঃ  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এগিয়ে বিএনপি

তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের রিুদ্ধে ওঠা অপকর্মের বিষয়ে তিনি বলেন, দায়ভারটা আমিই নিব। নিশ্চয়ই আমাদের মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল। সে জন্য ভোটারদের মধ্যে রিফ্লেকশন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিজয়ী ১১দলীয় জোটের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইউবী বলেন, কাপাসিয়ার সকল দলের, সকল ধর্মের, সকল বর্ণের লোকজন আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। সমর্থন দিয়েছেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কাপাসিয়ার জন্য কিছু পারা, আমার জন্য একটা সুযোগ বলে আমি মনে করি। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। সবাই মিলেমিশে কাপাসিয়াটাকে গড়তে চাই, অপরাজনীতি বন্ধ করতে চাই। অপরাজনীতির নামে যে ব্যবসা, সেটা বন্ধ করতে চাই।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী। বিজয়ীরা হলেন- গাজীপুর-১ মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৫ এ কে এম, ফজলুল হক মিলন।

আপনার মতামত লিখুনঃ

Share post:

সর্বশেষ খবর